কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ এ ০৪:১৬ PM

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন

কন্টেন্ট: পাতা

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা

স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও অনুদান বিতরণ :

স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি মূলত সমাজ উন্নয়ন ও কল্যাণপূলক প্রতিষ্ঠান। তৃণমূল পর্যায়ের মহিলাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা ও তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে মহিলাদেরকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করা এর অন্যতম দায়িত্ব। সমাজে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিসমূহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। ১৯৭৮ সনের ৫ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিস্ট্রিকরণ ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ (১৯৬১ সালের ৪৬ নং অধ্যাদেশ) এর ক্ষমতাবলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর শুধুমাত্র মহিলাদের দ্বারা গঠিত মহিলাদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী মহিলা প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ এবং সমিতিসমূহের মধ্যে বার্ষিক অনুদান বিতরণ করে আসছে। ১৯৮৯ সাল হতে ৬৪ জেলার উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে সমিতি রেজিস্ট্রেশন দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে সমিতি নিবন্ধনের জন্য একটি সফট্ওয়ার প্রস্তুত করা হয়েছে। উক্ত সফট্ওয়ারে cboreg.dwa.gov.bd এই লিংকে লগ ইন করে অনলাইনে সমিতি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সমগ্র বাংলাদেশে বর্তমানে নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা প্রায় ২০৭২১টি ।

অনুদান প্রদান : দেশের আর্থিক সঙ্গতিহীন কর্মক্ষম মহিলাদের আয়বর্ধণমূলক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অধিক সংখ্যায় অংশগ্রহণ ও তাদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধনকৃত মহিলা সমিতি সমূহের মধ্যে বৎসরিক অনুদান বিতরণ করা হয়ে থাকে।

অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্য

(ক) মহিলাদের সংগঠিত করে সমিতি গঠনের মাধ্যমে দলগতভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করা;

(খ) নিবন্ধনকৃত মহিলা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান/সংস্থাকে অনুদান প্রদান করে দরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা,

অবিবাহিতা ও প্রতিবন্ধী মহিলাদের উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের উন্নয়ন সাধন করা ;

(গ) অনুদানের অর্থ দ্বারা সমিতির সদস্যদের বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ;

(ঘ) মহিলাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল করার মাধ্যমে সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন ;

ঙ) আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দরিদ্র অথচ কর্মক্ষম মহিলাদেরকে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা।

সাধারণ অনুদান : ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নিবন্ধিত সমিতিসমূহের মধ্যে নিম্নবর্ণিত ভাবে ১২,৬৬,৪০,০০০/- (বার কোটি ছেষট্টি লক্ষ ‍সত্তর হাজার) টাকা সাধারণ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

শ্রেণির ধরণটাকার হারসমিতির সংখ্যাটাকার পরিমা
শ্রেণিভুক্ত সমিতি৪০,০০০/-১০০০টি (১০০ ৪০,০০০)৪,০০,০০,০০০/-
শ্রেণিভুক্ত সমিতি৩০,০০০/-১১০৮টি (১১০৮X৩০,০০০)৩,৩২,৪০,০০০/-
শ্রেণিভুক্ত সমিতি২৫,০০০/- ২১৩৬টি (২১৩৬X ২৫,০০০)৫,৩৪,০০,০০০/-
মোট৪২৪৪টি সমিতি১২,৬৬,৪,০০০/-

কথায়: বার কোটি ছেষট্টি লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা।

বিশেষ অনুদান : ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৬২ জেলার ১২৩ টি সমিতিকে ৫০,০০০/- টাকা হারে ( ১২৩ X ৫০,০০০/-) = ৬১,৫০,০০০/- (একষট্টি লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাধীন অনুদান : ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব বিবেচনায় ৩৬ টি সমিতিকে ৫০,০০০/- টাকা হারে ( ৩৬ X ৫০,০০০/-) = ১৮,০০,০০০/- (আঠার লক্ষ ) টাকা স্বেচ্ছাধীন অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

অর্জিত সাফল্য : সমাজে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে নিবন্ধনকৃত স্বেচছাসেবী মহিলা সমিতি সমূহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করছে। ফলে ক্রমান্বয়ে গোটা নারী সমাজের অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। ১৯৭৭-৭৮ সাল হতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি সমূহকে বৎসরওয়ারী অনুদান বিতরণ এবং বছরে প্রতি সমিতি হতে গড়ে প্রায় ১০০ জন দরিদ্র মহিলা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে।

# বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র, অঙ্গনা

ভুমিকা : মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৮৬ সালে বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র অঙ্গনার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে “মহিলাদের অর্থকরী কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি এবং আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত সমন্বিত কর্মসূচী” প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয় যা পরবর্তীতে জনবলসহ মহিলা সহায়তা কর্মসূচী প্রকল্পে স্থানান্তর হয় এবং ২০০১ সালে মহিলা সহায়তা কর্মসূচী প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র অঙ্গনা কার্যক্রম রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত হয়।

লক্ষ্য : জাতীয় উন্নয়নের মূলস্রোতধারায় নারীকে সম্পৃক্তকরন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহন।

উদ্দেশ্য :

  • নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের নিজস্ব উৎপাদিত পন্য বাজারজাত ও বিক্রয়ের সহায়তা করার মাধ্যমে তাদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
  • অঙ্গনার মাধ্যমে সারা দেশব্যপী নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
  • অঙ্গনার মাধ্যমে নারীরা আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত হলে নারী ও পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের দারিদ্র বিমোচন হবে।

অঙ্গনায় যা পাওয়া যাচ্ছে : অঙ্গনায় উন্নত মানের বিভিন্ন রকম বেডকভার, নকশী কাঁথা, হাতে কাজ করা শাড়ী, কাজ করা থ্রীপিস, সাধারন শাড়ী, পেটিকোট, ব্লাউজ,বিভিন্ন ডিজাইনের নানা সাইজের ব্যাগ,পার্স, তোয়ালে, নিউবর্ণ জামা,বেবী কাঁথা, লন্ড্রি ব্যাগ, বিভিন্ন ডিজাইনের কুশন কভার, ক্রশের টেবিল ম্যাট, আয়রন কভার, কিচেন এপ্রোন, শতরঞ্জি, কার্পেট পাটের তৈরী বাহারী ব্যাগ,শোপিস ইত্যাদি যুগোপযোগী মালামাল পাওয়া যায়।

মালামাল সংগ্রহ :

  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সকল জেলা/উপজেলা কার্যালয় এর প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মহিলাদের তৈরীকৃত মানসম্মত যুগোপযোগী দ্রব্যাদি।
  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত মহিলা সমিতির সদস্যদের তৈরীকৃত মানসম্মত দ্রব্যাদি।
  • মহিলা উদ্যোক্তাদের স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরীকৃত মানসম্মত দ্রব্যাদি।

মূল্য নির্ধারন ও বিক্রয় : যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক যে সব দ্রব্যাদি গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হয় শুধুমাত্র সেই সব দ্রব্যের ক্রয় মূল্যের সাথে ৫% মুনাফা যোগ করে দ্রব্যাদির বিক্রয় মূল্য নির্ধারন করা হয়।

  • মালামাল পাকা রশিদের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়।
  • মালামাল একদরে বিক্রয় করা হয়, বিক্রিত মাল ফেরৎ নেয়া হয় না।
  • অঙ্গনার বিক্রয়বাবদ প্রাপ্ত অর্থ নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যাংকের হিসাবদ্বয়ে জমা দেয়া হয়।

বিল পরিশোধ : অঙ্গনার মাধ্যমে বিক্রয়কৃত মালামালের বিল অতিরিক্ত পরিচালক/পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং সহকারী পরিচালক (মার্কেটিং) এর যৌথ স্বাক্ষরে অঙ্গনার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাব হতে A/C Payee চেকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/সমিতি/ব্যক্তিকে পরিশোধ করা হয়। মুনাফার অর্থ প্রতি অর্থবছর শেষে সরকারী কোষাগার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়।

অডিট : প্রতিবছর সরকারী অডিট টিম দ্বারা অঙ্গনার আয় ব্যয়ের হিসাব সম্বলিত অডিট কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।

অঙ্গনার সাফল্য : মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরাধীন বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র অঙ্গনার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাগন তাদের তৈরিকৃত মালামাল সরবরাহ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। অঙ্গনার মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। এভাবেই অঙ্গনা সরাসরি নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে ও সরকারের বার্ষিক আয়ে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

# ভিডব্লিউবি কার্যক্রম (পূর্বের ভিজিডি) এর পটভূমি:

১৯৭৪ সালের ৩ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য এ কার্যক্রম শুরু হয়। যা তৎকালীন সময়ে রিলিফ হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমকে টেকসই উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন Vulnerable Group Development (VGD) কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে খাদ্য সহায়তাকে উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে SIFAD (Strengthening Institution’s for Food Assisted Development) এর Recommendation অনুযায়ী খাদ্য সাহায্য/Relief থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আশির দশকের পূর্ববর্তী সময়ে নারী পুরুষ সকল হত দরিদ্রদেরকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হত। ১৯৭৪ সাল থেকে জুন ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভিজিডি কর্মসূচি ত্রাণ ও পুণর্বাসন মন্ত্রণালয় এর আওতাভুক্ত ছিল। ১৯৯৬ সাল হতে কর্মসূচির উপকারভোগী শতভাগ মহিলা হওয়ায় ভিজিডি কর্মসূচি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর হয়। ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হতো। ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে সম্পূর্ন সরকারের নিজস্ব (জিওবি) অর্থায়নে ভিজিডি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভিজিডি কর্মসূচির ক্রমবিকাশ: ভিজিডি কর্মসূচি ১৯৭৪ থেকে ২০২৪: ৫০ বছরে প্রকৃত অবস্থা নিম্নরূপ

  • ১৯৭৪ - ১৯৭৮ ওয়েলফেয়ার রিলিফ (ভিজিডি)
  • ১৯৭৯ - ১৯৮৭ ত্রাণ ও পূণর্বাসন Relief & Rehabilitation
  • ১৯৮৮ - ১৯৯০ রিলিফ থেকে উন্নয়নে পরিবর্তন Development Pilot Project
  • ১৯৯১ - ১৯৯২ উন্নয়ন পরিবর্তন (Development Changes)
  • ১৯৯৩ - ১৯৯৬ উন্নয়ন অভিজ্ঞতা (Development Learning)
  • ১৯৯৭ - ২০০৪ Development Expansion
  • ২০০৫ - চলমান Poverty elevation through Life skill & IGA training with savings

ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচির নাম পরিবর্তন:

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল পত্রের (NSSS-2015) আলোকে প্রণীত বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০২৬) অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১০/০৪/২০২২ খ্রি: তারিখ ২৮তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২২-২০২৩ অর্থবছর হতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ভিজিডি কর্মসূচি’র নাম পরিবর্তনপূর্বক ‘ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট (VWB)’ কার্যক্রম নামকরণ করা হয়েছে।

ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা:

ভিডব্লিউবি কার্যক্রম একটি জাতীয় কার্যক্রম, যার ব্যাপ্তি সমগ্র দেশব্যাপী। বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সম্পদের যোগান দিচ্ছে। খাদ্য সম্পদের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থার (NGO) মাধ্যমে উন্নয়ন প্যাকেজ (প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ও ঋণ ইত্যাদি) সেবা প্রদান করা হচ্ছে।


  • ভিডব্লিউবি কার্যক্রম (২৪ মাস সময়কাল একটি চক্র)
  • মাসিক ৩০ কেজি হারে ২ বছর চক্রে প্যাকেটজাত খাদ্য বিতরণ
  • মাসিক ২২০/- (দুইশত) টাকা হারে সঞ্চয় জমা
  • উপকারভোগী মহিলাদের সামাজিক সচেতনতা ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান
  • চক্র শেষে বাৎসরিক প্রারম্ভিক মূলধন হিসেবে সঞ্চয়ের অর্থ ফেরৎ প্রদান

ভিডব্লিউবি উপকারভোগীগণ ২৪ মাস চক্রে মাসিক ৩০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সেবার মেয়াদ সমাপ্তির পর সরকারী/বেসরকারী সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন কর্মকান্ডে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করে।

ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের উদ্দেশ্য:

ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদী উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের দরিদ্র পীড়িত এবং দুঃস্থ গ্রামীণ মহিলাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নয়ন করা, যাতে তারা বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, পুষ্টিহীনতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা এবং নিম্ন সামাজিক মর্যাদার অবস্থানকে সফলভাবে অতিক্রম করে চরম দারিদ্রস্তরের উপরের স্তরে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

স্বল্পমেয়াদী উদ্দেশ্য :

গ্রামীণ অসচ্ছল পরিবারসমূহের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়তা করা এবং বিপণনযোগ্য দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা, সঞ্চয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রারম্ভিক মূলধন সংগ্রহের জন্য উৎসাহিত করা এবং ঋণ প্রাপ্তিতে সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে উপার্জনক্ষম করে গড়ে তোলা; এবং চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোতে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য যোগ্য করে তোলা।

ব্যবহারিক শিক্ষা এবং অন্যান্য মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অসচ্ছল মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক উন্নয়ন এবং সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা।

উপকারভোগীর সংখ্যা:

বর্তমানে সারা দেশে ভিডব্লিউবি উপকারভোগী মহিলার সংখ্যা : ১০,৪০,০০০ জন।

২০০৯-২০১০ চক্র হতে ২০২৩-২০২৪ চক্র পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিভুত মোট উপকারভোগীর সংখ্যা:

চক্রের বিবরণউপকারভোগীর সংখ্যা

২০০৯-২০১০৭,৫০,০০০ জন
২০১১-২০১২৭,৫০,০০০ জন
২০১৩-২০১৪৭,৫০,০০০ জন
২০১৫-২০১৬৭,৫০,০০০ জন
২০১৭-২০১৮১০,০০,০০০ জন
২০১৯-২০২০১০,৪০,০০০ জন
২০২১-২০২২১০,৪০,০০০ জন
২০২৩-২০২৪১০,৪০,০০০ জন
মোট =৭১,২০,০০০ জন

উপকারভোগী নির্বাচন পদ্ধতি:

প্রতিটি চক্রে উপকারভোগী নির্বাচনের পূর্বে ‘উপকারভোগী নির্বাচন ও খাদ্য বিতরণ সংক্রান্ত পরিপত্র’ জারী করা হয়। মাঠ পর্যায়ে প্রেরিত পরিপত্র অনুসরণপূর্বক প্রতিটি চক্রে ভিডব্লিউবি উপকারভোগী বাছাই/নির্বাচন করা হয়। ভিডব্লিউবি কার্ড পাওয়ার জন্য আগ্রহী মহিলাদের প্রাথমিক আবেদন ফরম (ছক-১) এনজিও প্রতিনিধি/ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায়/a2i- এর একসেবা/My gov/৩৩৩ টেলিফোন নম্বর, জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্য আপার মাধ্যমে কিংবা আবেদনকারী মহিলার স্ব-উদ্যোগে যে কোন স্থান হতে অনলাইনে পূরণ করার সুযোগ রাখা হয়। পার্বত্য এলাকা এবং দুর্গম উপজেলার জন্য, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানে মোবাইল এ্যাপের মাধ্যমে অফলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। মোবাইল এ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে “VWB” নামে পাওয়া যাবে। ভিডব্লিউবি উপকারভোগী বাছাই/নির্বাচন কার্য ভিডব্লিউবি ওয়েব বেইজড সফটওয়্যারের (www.dwavwb.gov.bd) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সারাদেশের ১০,৪০,০০০ (দশ লক্ষ চল্লিশ হাজার) ভিডব্লিউবি উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য উপকারভোগীর আবেদন গ্রহণ, পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে উপকারভোগীদের NID প্রদান বাধ্যতামূলক।

খাদ্য বিতরণ পদ্ধতি:

  • ভিডব্লিউবি উপকারভোগীগণ ২ বৎসর বা ২৪ (চব্বিশ) মাসব্যাপী চক্রে প্রতি মাসে ৩০ কেজি হারে চাল/পুষ্টিচাল প্রাপ্ত হবেন;
  • মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে খাদ্য বিতরণের সরকারি মঞ্জুরী আদেশ (GO) জারীর পর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুকূলে খাদ্য বরাদ্দ আদেশ (AO) জারী করা হয়;
  • খাদ্য বরাদ্দ আদেশ অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের অনুকূলে ডিও জারীর পর চেয়ারম্যান স্থানীয় খাদ্য গুদাম হতে খাদ্য উত্তোলনপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদে ভিডব্লিউবি মহিলাদের মধ্যে পূর্ব নির্ধারিত তারিখে খাদ্য বিতরণ করে।

কর্মএলাকা:

সমগ্র বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা, ৪৯৩টি উপজেলা এবং ৪৫৮৩ টি ইউনিয়ন ।

কার্ড বরাদ্দ:

জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ (চাল) বাংলাদেশের দারিদ্রতার মানচিত্র (Poverty map) ও দারিদ্র স্মারণীর (Poverty database) ভিত্তিতে করা হয়ে থাকে। এই মানচিত্র ও স্মারণীতে উপজেলা ভিত্তিক মোট জনসংখ্যার শতকরা কতভাগ অতি দরিদ্রসীমার নীচে বাস করে তা প্রদর্শিত হয়।

ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের মোট কার্ডসমূহ উপজেলাভিত্তিক অতি দরিদ্রতার শতকরা হার-এর আনুপাতিক হারে বন্টন করা হয়। এক্ষেত্রে উচ্চ দারিদ্র হার সম্পন্ন উপজেলাসমূহ বেশি বরাদ্দ পেয়ে থাকে । কম দারিদ্র হার সম্পন্ন উপজেলাসমূহ তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ পায়। উপজেলার সকল ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দের ক্ষেত্রে উপজেলা ভিডব্লিউবি কমিটি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও দূর্দশাগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কার্ড বন্টন করে। তবে কোন অবস্থাতেই সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা এলাকায় ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়না।

উন্নয়ন প্যাকেজসেবা:

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও এনজিও-র মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এনজিও ভিডব্লিউবি মহিলাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য সেবা প্রদান করে থাকে। নির্বাচিত এনজিও ভিডব্লিউবি উপকারভোগীকে সামাজিক সচেতনতা ও আয়বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ব্যবস্থাপনা এবং আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের জন্য ঋণ প্রদানে সহায়তা করে যাবে। সেবা প্রদানকারী এনজিও সরকারের নিকট মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ও ঋণ প্রদান সম্পর্কিত প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে পেশ করে । ভিডব্লিউবি উপকারভোগীগণ এনজিও থেকে ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে ঋণ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। উপকারভোগীগণ যে নির্দিষ্ট আয় বৃদ্ধিমূলক কাজ করার জন্য ঋণ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, স্থানীয় বাজারে তার চাহিদা ও যথার্থতা কতটুকু তা যাচাই করে এনজিওগুলো তাদের ঋণ প্রদান করবে। এনজিও কোন প্রকার জামানত ছাড়াই মহিলাদের ঋণ দিবে। ঋণ প্রদান করা হবে সেই আয় বৃদ্ধিমূলক কাজের জন্য, যার উপর তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

প্রশিক্ষণ:

ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের ০৯টি মডিউলের মাধ্যমে জীবন দক্ষতা ও জীবিকা নির্বাহভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে উপকারভোগীদেরকে একদিকে যেমন সামাজিকভাবে সচেতন করা হচ্ছে, অন্যদিকে এই নারীদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

পুষ্টিচাল বিতরণ কার্যক্রম:

ভিডব্লিউবি উপকারভোগী মহিলাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার জন্য সারাদেশে ২০৫টি উপজেলায় (সরকারিভাবে ১৭০টি উপজেলা এবং বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে ৩১টি উপজেলা ও নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল (NI) এর মাধ্যমে ৪টি উপজেলায়) ৪,৬৬,৫৮৯ জন উপকারভোগীকে ফর্টিফাইড রাইস (পুষ্টিচাল) বিতরণ করা হচ্ছে। পুষ্টিচাল বিতরণ শুরু হয় ২০১৩ সাল (কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলায়)।

এই কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে সাধারন চালের সাথে ০৬টি মাইক্রো নিউট্রেন্ট (ভিটামিন এ, বি১, বি১২, আয়রন, ফলিক এসিড, জিংক) মিশ্রণপূর্বক পুষ্টিচাল প্রস্তত করে ফর্টিফাইড রাইস বিতরণ করা হচ্ছে। রাইস ফর্টিফিকেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভিডব্লিউবি কার্ডধারী মহিলার পরিবারসমূহের সদস্যবৃন্দ তথা মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের অভাবজনিত অপুষ্টির উপাদানের পরিমাণ কমে আসবে।

ভিডব্লিউবি সফটওয়ার:

ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আনায়নের লক্ষ্যে www.dwavwb.gov.bd ওয়েববেইজড সফটওয়ার প্রস্তুত করা হয়েছে। ওয়েববেইজড সফটওয়ারের মাধ্যমে উপকারভোগীদের ডাটা বেইজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ২০১৯-২০২০ চক্রে পরীক্ষামূলকভাবে সফটওয়ারের মাধ্যমে ১১টি উপজেলায় উপকারভোগী নির্বাচন শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১-২২ চক্র হতে সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণসহ উপকারভোগী নির্বাচন করা হচ্ছে। এর ফলে ১০,৪০,০০০ জন উপকারভোগী একটি ডাটাবেইজ তৈরী হয়েছে।

মনিটরিং পদ্ধতি:

সরেজমিনে পরিদর্শন ও ই-মটিটরিং এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের ভিডব্লিউবি উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ ও খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে।

কার্যক্রমের সার্বিক অর্জন/প্রভাব:

প্রতিটি ২(দুই) বছর মেয়াদী ভিডব্লিউবি চক্রে প্রত্যেক উপকারভোগী মহিলাকে মাসিক ৩০ কেজি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়ন প্যাকেজ সেবার আওতায় নির্বাচিত এনজিও’র মাধ্যমে সামজিক সচেতনতা, আয়বর্ধক ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চক্র সমাপ্তির পর প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে নিজেদের আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। যা সরকারের দারিদ্র দূরীকরণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি সার্বিকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে।

# মা ও শিশূ সহায়তা কর্মসূচি

কর্মসূচি পরিচিতিঃ মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (Mother and Child Benefit Programme) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। কর্মসূচিটি গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং শহর এলাকার কম আয়ের কর্মজীবি মায়েদের জন্য ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচির একটি সমন্বিত ও উন্নত সংস্করণ। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তার কৌশল (এনএসএসএস) নির্দেশিত জীবনচক্র ভিত্তিক কাঠামোর (Life Cycle Framework) আওতায় মাতৃগর্ভ অর্থাৎ শূন্য থেকে চার বছর পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা, মনো-সামাজিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের উপর গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচির রূপরেখা প্রণয়্ন করা হয়েছে।

কর্মসূচির সার্বিক উদ্দেশ্যঃ গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন যত্ন থেকে শুরু করে শিশুর জন্মের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ১০০০ দিনসহ ৪ বছর বয়স

পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ।

কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যঃ

# গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নির্দেশকের (খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র, পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ ইত্যাদি) উন্নয়ন

# বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার শিশু বা খর্বকায় শিশুর সংখ্যা হ্রাস

#উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশু বা কৃশকায় শিশুর সংখ্যা হ্রাস

# শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা।

কর্মসূচির সুবিধাদিঃ দরিদ্র অসহায় পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মা শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয়(সর্বোচ্চ দুজন) সন্তানের জন্য এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৩৬ মাস ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।প্রতিমাসে ভাতা প্রদানের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি,যত্ন, শিশুর পুষ্টি,মনোসামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিষয়ে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কর্মসূচির আওতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সারা দেশে সকল ইউনিয়ন,পৌরসভা,সিটি কর্পোরেশন এবং গার্মেন্টস কারখানায় ১৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৮০ জন উপকারভোগীকে সহায়তা প্রদান করেছে । জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী এই কর্মসূচির শুরু থেকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়াও সম্প্রতি ইউনিসেফ এবং বিশ্ব ব্যাংক এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান শুরু করেছে।

ভাতাভোগী বাছাই ও ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াঃ কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ভাতাভোগীর আবেদন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ভাতা পাওয়ার উপযোগী দরিদ্র,হত দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের পরিবারের গর্ভবতী মা প্রয়োজনীয় তথ্যসহ(জাতীয় পরিচয়পত্র,গর্ভ ধারণ সেবা কার্ড,একাউন্ট তথ্য) প্রতিমাসে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন এবং নির্দিষ্ট গার্মেন্টস কারখানা থেকে অনলাইনে অথবা তথ্য সেবা সহকারী ও তথ্য আপা কর্মকর্তার মাধ্যমে বাড়ি বসে আবেদন করতে পা্রেন। প্রতিমাসে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন-লাইনে যাচাই-বাছাই,সুপারিশ এবং চুড়ান্ত অনুমোদন হয়ে থাকে। প্রক্রিয়াটি অনলাইনে একটি Management Information System(MIS) এর মাধ্যমে কেন্দ্রিয় সামাজিক নিরাপত্তা ডাটাবেইজ এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে যার ফলে ভাতাভোগী সরাসরি জিটুপি প্রক্রিয়ায় মোবাইল একাউন্ট বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হতে তার ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারেন।

উপকারভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দঃ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৭,৭১,২০০ জন। মাসিক ভাতার হার জনপ্রতি ৮৫০/- টাকা। বরাদ্দ ১৮শত ১৯কোটি ২৭ লক্ষ টাকা।

উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতাবিতরণ: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর/২৫ মাসে ১৬,৪১,৬৪৯ জন উপকারভোগীর মাঝে =১৪০,২৭,২৭,৭৫৯/- (একশত চল্লিশ কোটি সাতাশ লক্ষ সাতাশ হাজার সাতশত ঊনষাট) টাকা এবং জুলাই-ডিসেম্বর/২৫ পর্যন্ত =৬৪২,২৭,৩৮,৩৫৪/- (ছয়শত বিয়াল্লিশ কোটি সাতাশ লক্ষ আটত্রিশ হাজার তিনশত চুয়ান্ন) টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

প্রত্যাশিত ফলাফলঃ কর্মসূচিটি স্বল্পমেয়াদে বিদ্যমান অপুষ্টি বিশেষতঃ কম ওজনের শিশু,খর্বাকায় এবং কৃশকায় শিশুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অবদান রাখবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচিটির মধ্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে প্রতিযোগী সক্ষম ভবিষৎ মানব সম্পদ তৈরিতে সরকারকে সহায়তা করবে।

# সেলাই মেশিন বিতরণ সংক্রান্ত তথ্যাদি

নিবন্ধনকৃত মহিলা সমিতি, দুঃস্থ ও প্রশিক্ষিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার আলোকে প্রতি বছর সেলাই মেশিন ক্রয় ও বিতরণ করা হয় :

ক্র:নংঅর্থ বছরপূর্বের জেরক্রয়কৃত

মোট মজুদ

(কলাম ৩+৪)

বিতরণ

অবশিষ্ট

(কলাম ৫-৬)

মন্তব্য
১৯৯৯-২০০০ ১৭৭১৭৭১৭৭২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ২৩১৮টি সেলাই মেশিন ক্রয়ের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
২০০০-২০০১ ৫৯৫৫৯৫৫৯৫
২০০১-২০০২
২০০২-২০০৩ ১২৫৪১২৫৪১২৫৪
২০০৩-২০০৪
২০০৪-২০০৫ ১৪৫০১৪৫০১৪৫০
২০০৫-২০০৬ ২২৭৩২২৭৩২২৭৩
২০০৬-২০০৭ ১২৫০১২৫০১২৫০
২০০৭-২০০৮
১০২০০৮-২০০৯
১১২০০৯-২০১০৯৬১৯৬১৭৬১২০০
১২২০১০-২০১১২০০১৯৮০২১৮০১৭৮০৪০০
১৩২০১১-২০১২৪০০১৭৩৬২১৩৬১৫৩৬৬০০
১৪২০১২-২০১৩৬০০১৬৩০২২৩০১৪৩০৮০০
১৫২০১৩-২০১৪৮০০১৬৭৮২৪৭৮১৩৭৮১১০০
১৬২০১৪-২০১৫১১০০২২১৭৩৩১৭২১১৭১২০০
১৭২০১৫-২০১৬১২০০২০৩৯৩২৩৯২০১৯১২২০
১৮২০১৬-২০১৭১২২০২৫৩৪৩৭৫৪২৫০৭১২৪৭
১৯২০১৭-২০১৮১২৪৭২২৭৫৩৫৭৫১৪১৪২১০৮
২০২০১৮-২০১৯২১০৮৩৯৫০৬০৫৮১৬৫৩৪৪০৫
২১২০১৯-২০২০৪৪০৫৪১০৯৮৫১৪৪০২৮১১২
২২২০২০-২০২১৮১১২৩৩২৭১১৪৩৯৩৬০৫৭৮৩৪
২৩২০২১-২০২২৭৮৩৪৪৫১২১২৩৪৬৪৪৬৩৭৮৮৩
২৪২০২২-২০২৩৭৮৮৩৪১২৫১২০০৮৪৮৬৬৭১৪২
২৫

২০২৩-২০২৪

৭১৪২

৭১৪২৫১০৮২০৩৪
সর্বমোট-৪৪০৭২-৪২০৩৮২০৩৪
উল্লেখ্যে যে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট ২,০৩৪টি সেলাই মেশিনের মধ্যে ত্রুটিযুক্ত ৭০৪টি এবং বিতরণযোগ্য ১,৩৩০টি সেলাই মেশিন রয়েছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন