কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ এ ০১:৩০ PM
কন্টেন্ট: পাতা
দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
· মহিলাদের আত্ম -কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম
. অঙ্গনা
· চাকুরী বিনিয়োগ তথ্য কেন্দ্র
# মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম”
ভুমিকা: একটি দেশের জাতীয় উন্নয়ন নির্ভর করে সেদেশের নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের যে কোন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে নারী সমাজের ভূমিকা অনিস্বীকার্য। তাই দেশের সুষম উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা ও কর্ম দক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রমকে সফল করার লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। উক্ত কার্যক্রমের একটি অংশ “মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম”। দেশের ৬৪টি জেলার আওতাধীন ৪৯০ টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
লক্ষ্য: জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দরিদ্র ও অসহায় মহিলাদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীকে স্বাবলম্বী করা ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
উদ্দেশ্য:
১। দরিদ্র ও অসহায় মহিলাদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন
২। আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা;
৩। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীদের সম্পৃক্ত
৪। নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা;
৫। নারীদের অধিকার সংরক্ষণ ও আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি;
আয়বর্ধক কর্মসূচি: নারী ঋণের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মসূচি যেমন- সেলাই মেশিন ক্রয়, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগী পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, মৎস্য চাষ, নার্সারী ইত্যাদি আয়বর্ধক কর্মসূচি উপর ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যেমন- স্যানিটারী ল্যাট্রিন ব্যবহার, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে প্রেরণ, জন্ম নিবন্ধন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিশুদের রোগ প্রতিষেধক টিকা ইনজেকশন প্রদান, বিশুদ্ধ পানি পান, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করা হয়।
ঋণ প্রদানের পরিমাণ ও সার্ভিস চার্জ
১। এককভাবে ২৫,০০০/-(পচিঁশ হাজার)-৭৫,০০০/-(পঁচাত্তর হাজার);
২। দলীয়ভাবে ১ লক্ষ-২ লক্ষ;
৩। সার্ভিস চার্জ ৫%;
৪। গ্রেস পিরিয়ট-২ মাস;
৫। সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্য ১০ কিস্তি এবং ২ বছরের জন্য ২২ কিস্তিতে পরিশোধ যোগ্য।
বাছাইয়ের মানদন্ড
১) ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বা জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, ভিডব্লিউবি উপকারভোগী, শারীরিক প্রতিবন্ধি ও বিদেশ ফেরৎ কর্মক্ষম নারীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে;
২) বয়সসীমা: ১৮-৫৫ বছর;
৩) ভিটে বাড়ি অথবা স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে;
৪) পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকা হতে হবে;
৫) একক বা দলীয়ভাবে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে।
এই কর্মসূচিটি ঘূর্ণায়ামান তহবিল হিসেবে ২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ৬৪টি জেলার আওতাধীন ৪৯২টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মোট বরাদ্দ: ৬৩.০৪২০ (তেষট্টি কোটি চার লক্ষ বিশ হাজার) টাকা
এ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত মোট বিতরণ: ২০৩.১৪১৪ (দু্ইশত তিন কোটি চৌদ্দ লক্ষ চৌদ্দ হাজার) টাকা।
ক্রমপুঞ্জিত মোট আদায়- ১৬৩.৯৮১১ (একশত তেষট্টি কোটি আটানব্বই লক্ষ এগারো হাজার) টাকা।
মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ১,৬৯,৮৮৭ জন। (ক্রমপুঞ্জিত আদায় থেকে বিতরণ করা হয়েছে)।
আদায়ের হার- ৮০.৭২%।
ভূমিকা:
জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীকে সম্পৃক্তকরণ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষো মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ১৯৮৬ সালে বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র অঙ্গনা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সাল থেকে অঙ্গনা রাজস্ব বাজেটে পরিচালিত হচ্ছে। অঙ্গনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরাধীন নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির বা একক উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত ও সরবরাহকৃত পণ্য সামগ্রী বাজারজাতকরণ এবং বিক্রয়ে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ ও বিক্রয়ে সহায়তা করার মাধ্যমে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
অঙ্গনার মাধ্যমে দেশব্যাপী নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
অর্থনৈতিক ও সামাজিকক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস করা, নারীর ক্ষমতায়ন, দেশের দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা করা।
পণ্য সংগ্রহঃ
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সকল জেলা/উপজেলা কার্যালয় এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তাদের তৈরীকৃত মানসম্মত যুগোপযোগী পণ্য সামগ্রী।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত মহিলা সমিতির সদস্যদের তৈরীকৃত মানসম্মত পণ্য সামগ্রী।
নারী উদ্যোক্তাদের স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরীকৃত মানসম্মত পণ্য সামগ্রী।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রয়ঃ
অঙ্গনার পণ্য সামগ্রী বিক্রয় ও প্রদর্শণীর জন্য গঠিত যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক যে সব পণ্য সামগ্রী গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয় শুধুমাত্র সেই সব পন্যের ক্রয় মূল্যের সাথে ৫% মুনাফা যোগ করে পণ্যাদির বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
পণ্য সামগ্রী পাকা রশিদের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়।
পণ্য সামগ্রী একদরে বিক্রয় করা হয়। বিক্রিত মাল ফেরত নেয়া হয় না।
অঙ্গনার বিক্রয়লব্ধ অর্থ বিধি মোতাবেক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ২টি হিসাবে জমা দেয়া হয়।
অঙ্গনায় যা পাওয়া যায়:
অঙ্গনায় রয়েছে ব্লক বাটিক, হাতের কাজের সুতি, মসলিন, জামদানি, সিল্ক, মনিপুরি শাড়ী, মেয়েদের থ্রিপিস, টুপিস, পাঞ্জাবী, ফতুয়া, লুঙ্গি, গামছা, নবজাতক শিশুর ন্যাপিসহ বিভিন্ন বয়সী শিশুদের পোশাক, নকশী কাঁথা, এপ্লিকের বিছানার চাদর, টেবিলম্যাট, কুশন কভার, শতরঞ্জি, শিকা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে মুক্তণ, মেটাল, কাপড়সহ আদিবাসী নারীদের হাতে বানানো বিভিন্ন মোটিভের গয়না, বাঁশ-বেতের দৃষ্টি নন্দন শোপিস ট্রে, টেবিল ল্যাম্প, জামদানি ব্যাগ, জুতো, পিতল ও মাটির গ্লাস, প্লেট, পেইন্টিং পটারি, চারা গাছসহ গৃহ সজ্জার আকর্ষনীয় সব পণ্য সামগ্রীর বিশাল সম্ভার।
অঙ্গনা খোলা থাকার সময়:
সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অঙ্গনা সবার জন্য উন্মুক্ত।
অঙ্গনায় পণ্য সামগ্রী বিক্রয় ও প্রদর্শনের নিয়মঃ
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধিত মহিলা সমিতি সমূহের উদ্যোক্তা অথবা একক উদ্যোক্তা উৎপাদিত মানসম্মত নিজস্ব পণ্যসামগ্রী After sale payment শর্তে অঙ্গনায় সংগ্রহ করা হয়। পণ্য সামগ্রী অঙ্গনায় বিক্রি ও প্রদর্শনের জন্য উদ্যোক্তাদের রেজিষ্ট্রেশন ফি বা সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হয় না। অবিক্রিত পণ্য সামগ্রী নির্দিষ্ট সময় পর উদ্যোক্তাকে ফেরত প্রদান করা হয়।
অঙ্গনার পণ্য সামগ্রী গ্রহণের জন্য একটি পণ্য যাচাই বাছাই কমিটি রয়েছে। প্রতিটি পণ্যের বাজারদর বিবেচনা করে যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক ক্রয়মূল্যের সাথে ৫% মুনাফা যুক্ত করে বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়। উদ্যোক্তণ তার বিক্রিত পণ্যের নির্ধারিত মূল্য পেয়ে থাকেন। বাড়তি ৫% প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে জমা হয়। উদ্যোক্তার বিক্রিত পণ্যের মূল্য বাবদ বিল A/c payee চেকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান/সমিতি/ব্যাক্তিকে পরিশোধ করা হয়।
অঙ্গনা ঈদ মেলা ও শরৎ উৎসব ২০২৫
অঙ্গনার ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে অঙ্গনা ঈদ মেলা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ মার্চ ২০১৫ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় মেলায় দর্শনার্থীরা কেনাকাটা করেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সদর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মেলায় শাড়ী, জামা, গয়না, চামড়ার পণ্য সামগ্রী, খাবারের স্টলসহ মোট ৩০টি স্টলে ৩০জন উদীয়মান নারী উদ্যোক্ত অংশগ্রহন করেন। মেলায় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের ক্রেতাগণ ব্যাপকভাবে আসেন ও কেনাকাটা করেন। ব্যাপক সাড়া জাগানো অঙ্গনা ঈদমেলায় উদ্যোক্তারা চারদিনে মোট ৯,৪৫,০০০ /-(নয় লক্ষ পঁয়তাল্লিশ হাজার) টাকার পণ্য সামগ্রী বিক্রি করেন।