- নারী উন্নয়ন ও সমতার লক্ষ্যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (SDG) নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নকল্পে রাজস্ব ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে নারী উন্নয়নে গৃহীত সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগ ও কার্যক্রমের সমন্বয় করা।
- ভিডব্লিউবি কর্মসূচি(পূর্বের ভিজিডি): বাংলাদেশ সরকারের সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচি (Safety net programme) দুঃস্থ ও অসহায় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম মহিলাদের উন্নয়ন স্থায়ীত্বের জন্য দুই বৎসর ব্যপি বা ২৪ মাস প্রতি নারী প্রতি মাসে ৩০ কেজি খাদ্যশস্য ও প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। ভিডব্লিউবি মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১০,৪০,০০০ জন।
- মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি: গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং শহর এলাকার কম আয়ের কর্মজীবি মায়েদের জন্য ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল কর্মসূচির একটি সমন্বিত ও উন্নত সংস্করণ। কর্মসূচির উদ্দেশ্য গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন যত্ন থেকে শুরু করে শিশুর জন্মের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ১০০০ দিনসহ ৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ। দরিদ্র অসহায় পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মা শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় (সর্বোচ্চ দুজন) সন্তানের জন্য এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৩৬ মাস ৮৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। প্রতিমাসে ভাতা প্রদানের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি, যত্ন, শিশুর পুষ্টি, মনোসামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৭,৭১,২০০ জন।
- মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম: বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিত্তহীন ও দরিদ্র মহিলাদের উৎপাদনমূখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়। ‘‘মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম” কর্মসূচীটি ২০০৩-০৪ অর্থ বছর হতে শুরু করে চলমান অর্থ বছর পর্যন্ত সারা দেশের ৬৪টি জেলার আওতাধীন ৪৯২টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
- স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রন ও অনুদান বিতরণ: স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সংগঠনসমূহের নিবন্ধন প্রদান ও তদারকিসহ তাদের মধ্যে বাৎসরিক অনুদান প্রদান করা হয়।
- প্রশিক্ষণ: নারীবান্ধব আবাসিক/অনাবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বৃত্তিমূলক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ০৭টি জেলায় ০৭টি আবাসিক ও ০১টি অনাবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্বের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষিত করে তোলা হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়ে মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (wtc): ১৩৬টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (wtc) রয়েছে। এসব কেন্দ্রে অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও স্বল্প শিক্ষিত মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ০৩মাস মেয়াদে দর্জি বিজ্ঞান ট্রেডে প্রতিব্যাচে ৩০জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদেরকে দৈনিক (সরকারি ছুটি ব্যতীত) ১০০/- (একশত) টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়।
নারী প্রশিক্ষণ একাডেমী, জিরানী, গাজীপুর: জিরানী গাজীপুরে অবস্থিত নারী প্রশিক্ষণ একাডেমীতে ১৮-৩৫ বৎসর বয়সী নারী প্রশিক্ষণার্থীদের ০৩ মাস মেয়াদী ০৫টি ট্রেডে আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে আবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের মাসিক ৩০০/-(তিনশত) টাকা হারে ০৩ মাসে মোট ৯০০/-(নয়শত) টাকা যাতায়াত ভাতা এবং অনাবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিদিন উপস্থিতির ভিত্তিতে ২০০/-(দুইশত) টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।
এছাড়া, নারী প্রশিক্ষণ একাডেমীতে ইউসেপ বাংলাদেশ এর সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পরিচালিত ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সুইং মেশিন অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স ট্রেডে-৮০টি আসনে ০২ মাস মেয়াদী (অনাবাসিক) কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের জনপ্রতি ০২ মাসে মোট ২,০০০/-(দুই হাজার) টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।
গ্রামীণ মহিলাদের কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জিরানী, গাজীপুর: জিরানী গাজীপুরে অবস্থিত গ্রামীণ নারীদের কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৮-৩৫ বৎসর বয়সী নারী প্রশিক্ষণার্থীদের ০১টি ট্রেডে ০৩ মাস মেয়াদী (অনাবাসিক) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। অনাবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিদিন উপস্থিতির ভিত্তিতে ২০০/-(দুইশত) টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।
বেগম রোকেয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ময়মনসিংহ: এই প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ আবাসিক পরিবেশে ০৩ মাস মেয়াদী ০৪টি ট্রেডে মোট ১৫০ জন নারীকে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। হাউজ কিপিং এন্ড কেয়ার গিভিং ট্রেডের ২৫ বছরের অধিক বয়সের প্রশিক্ষিত মহিলারা সরকারী প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে বিদেশে চাকুরী নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষে ০৩ মাসে মোট ৯০০/-(নয়শত) টাকা যাতায়াত ভাতা এবং অনাবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিদিন উপস্থিতির ভিত্তিতে ২০০/-(দুইশত) টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।
মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জিরাবো, সাভার, ঢাকা : এই প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষনার্থীরা ০৩ মাস মেয়াদী ০৪টি ট্রেডে আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষে ০৩ মাসে মোট ৯০০/-(নয়শত) টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।
মহিলা হস্তশিল্প ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দিনাজপুর: স্বল্প শিক্ষিত এবং শিক্ষিত নারীদের ০৩ মাস মেয়াদী ০৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ০৩ মাসে মোট ৯০০/-(নয়শত) টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে।
মা ফাতেমা (রা:) মহিলা প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কমপ্লেক্স, সারিয়াকান্দি, বগুড়া: এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিরাপদ আবাসিক সুবিধায় ইউসেপ বাংলাদেশ এর সাথে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পরিচালিত ০৩ মাস মেয়াদী ০৩টি ট্রেডে ০৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ শেষে ০৩ মাসে মোট ৩,০০০/-(তিন হাজার) টাকা ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে।
মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট, বাগেরহাট: এ প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটে ০৩ মাস মেয়াদী ০৩টি ট্রেডে আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ০৩ মাসে মোট ৯০০/-(নয়শত) টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী: এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত বেসরকারী মহিলা সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের সক্ষমতা বিকাশ বিষয়ে ৬০টি আসনে ০৫(পাঁচ) দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
বিক্রয় ও প্রদর্শণী কেন্দ্র অঙ্গনা : বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র অঙ্গনা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র সংগঠনের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা, বিপণন ও বাজারজাত করণে সহায়তা এবং নারীবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারী পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন তথা দারিদ্র বিমোচন করার লক্ষ্যে অঙ্গনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অঙ্গনায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলো বা ব্যক্তিগতভাবে যে কোন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের জন্য সরবরাহ করতে পারেন। অঙ্গনায় পণ্য সামগ্রী বিক্রয় বা প্রদর্শনের জন্য কোন ফি প্রদান করতে হয় না।মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহিলা উন্নয়ন ভবনে (৩৭/৩ ইস্কাটন গার্ডেন রোড, ঢাকা-১০০০) অবস্থিত অঙ্গনা সরকারি অফিসসূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
কর্মজীবি মহিলাদের জন্য মহিলা হোষ্টেলঃ কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ আবাসন সুবিধা প্রদানের নিমিত্তে সারাদেশে ০৯টি মহিলা হোষ্টেল পরিচালনা করা হচ্ছে।কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলসমূহ ঢাকা এর নীলক্ষেত, খিলগাঁও, মিরপুর-১, সাভারের আশুলিয়া , গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও যশোর এ অবস্থিত। ০৯টি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের মোট সিট সংখ্যা: ২৭৫২টি(গেস্টসীটসহ)।
- শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রঃ কর্মজীবী মায়েদের ০৬ মাস হতে ০৬ বছর বয়সী শিশুদের (সরকারি ছুটির তিন দিন ব্যতিত) দিবাকালীন (সকাল ৮:৩০ টা হতে বিকাল ৫:৩০ টা পর্যন্ত) সেবা প্রদানের মাধ্যমে মায়েদের স্ব স্ব কর্মস্থলে নিশ্চিন্তে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেট দ্বারা ৪৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকাস্থ ২৫টি, জেলা শহরে ১৮টি এবং বিভাগীয় শহরে ০৫টি ( চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ) শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
- ক্লাবে সংগঠিত করে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কিশোর কিশোরীদের ক্ষমতায়ণ কর্মসূচি: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তক বাস্তবায়নাধীন কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে প্রতিটি ইউনিয়ন ও প্রতিটি পৌরসভায় একটি করে সর্বমোট ৪৮৮৩ টি (৪৫৫৩ টি ইউনিয়ন ও ৩৩০ টি পৌরসভা) কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন সদস্য রয়েছে যাদের বয়স ১০-১৯ বছর। এর মধ্যে ২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোর রয়েছে। ক্লাব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেন্ডার প্রোমোটার, সংগীত শিক্ষক ও আবৃত্তি শিক্ষক রয়েছে। ক্লাবের মাধ্যমে ক্লাব সদস্যদেরকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিরোধ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, যৌতুক, ইভটিজিং, শিশু অধিকার, নারী অধিকার, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য, যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রতিরোধ, পরিবার পরিকল্পনা, মাদকাসক্তি, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা প্রদান, এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেই সাথে ক্লাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে কিশোর-কিশোরীদের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রকল্প কার্যক্রমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও কিশোর কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নাস্তায় সিদ্ধ ডিম/কেক/বাটার বন/মৌসুমী ফল/মিষ্টি/দই/জুস ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়।
- মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রঃ মহিলা , শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা এবং আইনগত সহায়তা সেবা প্রদান করা হয়। আদালত হতে প্রেরিত ১০০ জন হেফাজতীর ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন কেন্দ্রটি গাজীপুরে অবস্থিত।
ই -সার্ভিস কর্মসূচি: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সকল শাখার ডিজিটাল নথি (ডি নাথি), ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (e-GP) ও ড্যাসবোর্ড কার্যক্রমসমূহ পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা করা হয়। এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির (GPMS) আওতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্ধারিত সেবাসমূহের লক্ষ্যমাত্রা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয় ।
- মহিলা সহায়তা কেন্দ্র ঃ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহিলা সহায়তা কর্মসূচির অধীনে নির্যাতনের শিকার, অসহায়, দুঃস্থ নারীদের আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এবং নির্যাতিত নারীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য আবাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। প্রতিরোধ সেলে নির্যাতনের শিকার নারীদের অভিযোগ গ্রহণ, কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, দেনমোহর,স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণ-পোষণ আদায় করা সহ আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।
- ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারঃ নির্যাতিত নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের উদ্যোগে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ সেন্টারে সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য বিনামূল্যে মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
- অদম্য নারী: বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন প্রতিকূলতা, বৈষম্য, সামাজিক বাধা অতিক্রম করে অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, মানব কল্যাণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেইসব সাহসী, সংগ্রামী ও বিজয়ী নারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের অবদানকে যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অগ্রসর হওয়ার পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'অদম্য নারী পুরস্কার' শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় অদম্য নারী সম্মাননা প্রদান করে থাকে। প্রতি বছর ৮ মার্চ আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে ০৫টি ক্যাটাগরিতে ০৫ জন অদম্য নারীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কর্মসূচি: ১৯৮৬ সালে নির্যাতনের শিকার নারীদের আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ১ জন আইন কর্মকর্তার সম্বনয়ে ৪টি পদ নিয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু হয় যা পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়েও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি): নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের অধীনে ৭টি বিভাগীয় শহরে অবস্থিত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হয়েছে। ওসিসি হতে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, ডিএনএ পরীক্ষা, মানসিক কাউন্সেলিং, আশ্রয় এবং সমাজের পুণর্বাসনের জন্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার: নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্ট্রোরাল কার্যক্রমের মাধ্যমে হেল্পলাইনের ১০৯ নাম্বারে তাৎক্ষনিকভাবে আইনী সহায়তা প্রদান। যেকোন মোবাইল হতে ২৪ঘণ্টা এই নাম্বারে ফোন করে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু তাদের পরিবারের সদস্যসহ যে কেউ প্রয়োজনীয় সাহায্য পেতে পারেন।
- চাকুরী বিনিয়োগ তথ্য কেন্দ্রঃ চাকুরি, বিনিয়োগ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে নিবন্ধিকৃত বেকার, শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা অদক্ষ চাকুরি প্রত্যাশী নারীদের চাকুরি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ, চাকুরি প্রাপ্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অগ্রাধিকার প্রাপ্তিতে সহায়তা করা।